অটোরিক্সা চালক সাইফুল হত্যা মামলার প্রধান আসামীসহ ০২ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
আপডেট সময় :
২০২৬-০৪-২০ ০১:২৫:১২
অটোরিক্সা চালক সাইফুল হত্যা মামলার প্রধান আসামীসহ ০২ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিএমপি, ঢাকার তুরাগ থানায় চাঞ্চল্যকর অটোরিক্সা চালক সাইফুল (৪২) ক্লুলেস হত্যা মামলার প্রধান আসামীসহ ০২ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সবসময় বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে এ পর্যন্ত মাদক ব্যবসায়ী, অপহরণকারী, সন্ত্রাসী, এজাহারনামীয় আসামী, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, প্রতারকচক্র, ধর্ষণকারী, পর্ণোগ্রাফি বিস্তারকারী, চোরাকারবারীদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে এবং চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার ঘটনা উৎঘটন করে আসামীদের আইনের সম্মুখিন করছে।
সম্প্রতি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ০৬:০০ ঘটিকার সময় অটোরিক্সা চালক সাইফুল ইসলাম (৪২) তার ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা নিয়ে যাত্রী বহনের উদ্দেশ্যে বাহির হয়ে আর বাসায় ফেরত আসেননি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজা-খুঁজি করে কোন সন্ধান না পেয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ আশুলিয়া থানায় নিঁখোজ জিডি করেন।
অতঃপর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমানিক ০৪:০০ ঘটিকার সময় জানতে পারেন যে, তুরাগ থানা এলাকায় লেকের পানির মধ্যে অজ্ঞাতনামা একজনের লাশ পাওয়া গেছে।
পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে অটোরিক্সা চালক সাইফুলের লাশ সনাক্ত করেন। থানা পুলিশ ও পরিবারের ধারণা মতে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ০৬:০০ ঘটিকা হতে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ে অজ্ঞাতনামা আসামীরা নিহত ভিকটিম সাইফুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে এবং লাশ গুমের উদ্দেশ্যে লেকের পানিতে নিক্ষেপ করে। এসময় অজ্ঞাতনামা আসামীরা নিহত ভিকটিমের ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা চুরি করে নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী লাভলী বেগম (৪০) বাদী হয়ে তুরাগ থানায় হত্যা মামলা রুজু করেন। উক্ত অটোরিক্সা চালক হত্যাকান্ডের ঘটনাটি মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে র্যাব-১ অজ্ঞাতনামা আসামীদের গ্রেফতারের জন্য ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরধারী শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল ক্লুলেস হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামী-১। মোঃ শহীদুল ইসলাম (৩৪), পিতা- মোঃ নুর ইসলাম, গ্রাম- দই খাওয়া বাজার, থানা-হাতিবান্ধা, জেলা- লালমনিরহাট বর্তমান- ছোট চন্দ্রাইল, থানা-ধামরাই, জেলা-ঢাকা’কে গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ ১৯৫৫ ঘটিকার সময় ঢাকা জেলার ধামরাই থানাধীন স্ট্যান্ড ওভার ব্রীজ হতে গ্রেফতার এবং আসামী-২। স্বপন শেখ @ কবির শেখ (২৮), পিতা-মোঃ শামছুদ্দিন ওরফে শামছু শেখ, গ্রাম- কান্দা পাড়া (ভরাকান্দা), হোগলা বাজার, থানা- পূর্বধলা, জেলা- নেত্রকোনা’কে একই তারিখ ১৬৩৫ ঘটিকার সময় ডিএমপি, ঢাকার তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল ভবনের সামনে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিলো বলে স্বীকার করে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত- বাবুল, নাইম, সোবাহান, ইয়াছিন, শহীদুল, স্বপন ও নার্গিস এই ৭ জন মিলে অটোরিক্সা চালক সাইফুল ইসলামকে ভাড়া করে নিয়ে তুরাগ থানাধীন কামার পাড়া পুলিশ বক্স বরাবর কাঁচাবাজারে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে বাবুলের নেতৃত্বে ভিকটিমকে কাঁচা বাজারের ভিতরে বসে অচেতন করা হয়। পরে ইয়াছিন ভিকটিমের অটোরিক্সাটি চালিয়ে নিয়ে যায় এবং বাকী সহযোগিরা মিলে ভিকটিম সাইফুলকে অটোরিক্সা যোগে কৌশলে তুরাগ থানাধীন ১৬নং সেক্টরস্থ লেকে নিয়ে যায় এবং লেকের পানিতে ফেলে দেয়। পরে হত্যা কান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বাবুল ভিকটিমের রিক্সাটি বিক্রি করে শহীদুলকে গত ১৬ ফেরুয়ারি ২০২৬ তারিখ ৭০০০/- টাকা দেয় এবং স্বপনকে বিকাশে ৪০০০/- টাকা প্রদান করে।
উল্লেখ্য যে, বাবুল, নাইম, সোবাহান ও নার্গিস বিভিন্ন মামলায় বর্তমানে জেল হাজতে আছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের'কে ডিএমপি, ঢাকার তুরাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স